শিরোনাম

সিলেটে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা: গ্রেফতারের পর জামিনে মূক্ত তাতীদলের রাসেল, আতঙ্কে পরিবার

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২৬

সিলেটে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা: গ্রেফতারের পর জামিনে মূক্ত তাতীদলের রাসেল, আতঙ্কে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ১নং আসামি রাসেল আহমদকে বিজ্ঞ আদালত কারাগারে পাঠালেও বর্তমানে সে জামিনে মুক্ত হয়ে এসেছে। জামিনে বের হওয়ার পর থেকে মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে গত মে মাসে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর আবদুল কুদ্দুস বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ৩৭৯/৫০৬/১০৯ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে একটি সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন (সি.আর মামলা নং-১৬৩০/২০২৪ ইং) দাখিল করেন।

সিলেট কোতোয়ালী সি.আর মামলা নং-১৪০/২০২৩ ইং ও পরবর্তী মামলা নং-১৬৩০/২০২৪ ইং-এর বিবরণ অনুযায়ী, কুমারপাড়ার বাসিন্দা মৃত হাজী আব্দুর রহিমের পুত্র মো: নাসির আহমদ (৪৬) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্তরা হলেন- রাসেল আহমদ (৪৪), আশিকুর রহমান মুন্না (২৪), মুন্নি বেগম (৫০), আব্দুল আবুল ওরফে আবু মিয়া (৫৫) এবং বাদীর আপন ভাই আমেরিকাপ্রবাসী তপন লস্কর ওরফে শামীম আহমদ।

অভিযোগে জানা যায়, বাদীর পিতা জীবদ্দশায় তিনটি বিবাহ করেন এবং মোট ১৩ জন সন্তান রেখে যান। পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার মৌজা-জেলা সিলেট, থানা-সদর, মিউনিসিপ্যালিটি এলাকার কোটি টাকা মূল্যের জমি ও বহুতল ভবন দেখাশোনা এবং ভাড়া উত্তোলনের জন্য সরল বিশ্বাসে ১নং আসামি রাসেল আহমদ ও ২নং আসামি আশিকুর রহমান মুন্নাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ১নং ও ২নং আসামি বাদীর আমেরিকাপ্রবাসী আপন ভাই ৫নং আসামি তপন লস্করের সাথে যোগসাজশ করে পুরো সম্পত্তি আত্মসাতের নীল নকশা তৈরি করে। তারা অন্যান্য ভাই-বোনদের ভাগের কোনো টাকা না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা নিজেরা গ্রাস করতে থাকে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর সম্মতি ও অনুমতি ছাড়াই আসামিরা বেআইনিভাবে ওই ভবনে থাকা বাণিজ্যিক গুদামের পল্লী বিদ্যুতের একটি দামী মিটার চুরি করে নিয়ে যায়। গত বছরের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাদী ঘটনাটি জানতে পেরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ সরজমিনে তদন্ত করে মিটার চুরির সত্যতা পায়। পরবর্তীতে বাদী আসামিদের কাছে মিটার চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে ১নং থেকে ৪নং আসামিরা বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মামলা-মোকদ্দমা করলে প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ৫নং আসামি তপন লস্কর আমেরিকায় বসে পরোক্ষ প্ররোচনা দিয়ে ১নং থেকে ৪নং আসামিদের মাধ্যমে বাদী ও তার ভাই-বোনদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য কৌশল অবলম্বন করছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৭৯ (চুরি), ৫০৬ (অপরাধমূলক হুমকি) এবং ১০৯ (অপরাধে সহায়তা) ধারার অপরাধের সত্যতা মিলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার পর ১নং আসামি রাসেল আহমদকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু সম্প্রতি সে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জামিনে আসার পর থেকে এই ভূমিখেকো ও দখলদার চক্রটি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও তার বোনদের নানাভাবে চাপ দিচ্ছে এবং পরোক্ষ হুমকি ধামকি প্রদর্শন করছে। প্রবাসী ভাইয়ের অর্থ শক্তিতে বলীয়ান এই চক্রের বেপরোয়া আচরণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। তারা এই ভূমিগ্রাসী চক্রের হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ