শিরোনাম

তাহিরপুরে সাংবাদিক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভুয়া সংবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

তাহিরপুরে সাংবাদিক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভুয়া সংবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগ

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:   দৈনিক সমকাল ও দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভুয়া সংবাদ প্রকাশ, প্রশাসনিক হয়রানি এবং দুর্নীতির একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী Md Ehiya জানান, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার পরিবারকে লক্ষ্য করে হয়রানি চালানো হয়েছে।
মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত
অভিযোগের সূত্রপাত ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল। সেদিন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক তাহিরপুর সফরে আসেন। ওই সময় সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শনির হাওরে ৯০ শতাংশ ধান কর্তন শেষ হয়েছে এমন একটি পোস্ট দেন।
এর বিপরীতে Md Ehiya বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্তব্য করেন সরেজমিনে তদন্ত করলে দেখা যাবে শনির হাওরে তখনো প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কর্তন হয়নি।
বাবার সামনে হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ
এই মন্তব্যের জেরে সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম অভিযোগকারী ও তার বাবাকে উপজেলা মৎস্য অফিসে ডেকে এনে অপমান ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, একজন বাবার সামনে তার একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কটূক্তি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়, যা তার বাবার জন্য ছিল চরম মানসিক আঘাতের। ওই সময় আবেগতাড়িত হয়ে বাবার চোখে পানি চলে আসে বলেও তিনি দাবি করেন।
চাকরি থেকে সরানোর চেষ্টা ও ভুয়া সংবাদ প্রকাশ
এরপর থেকে সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম ধারাবাহিকভাবে তার পেছনে লেগে পড়েন বলে অভিযোগ। উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে তাকে সরিয়ে নিজের পছন্দের লোক বসানোর চেষ্টা চালানো হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে একটি সরকারি লোহার গ্রিল বিক্রির অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
তিনি জানান, অভিযোগকৃত গ্রিলটি ছিল প্রায় ১২ ফুট লম্বা, ৭ ফুট চওড়া এবং আনুমানিক ৩২০ কেজির বেশি ওজনের, যা তালাবদ্ধ স্টোররুমে সংরক্ষিত ছিল এবং যার চাবি কর্মকর্তার হেফাজতে থাকত। এমন ভারী ও তালাবদ্ধ গ্রিল বিক্রি করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিনে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি
ভুয়া সংবাদের পর তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ১৫–২০ জন সফরসঙ্গীসহ ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা না পেয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও নিন্দা জানান বলে অভিযোগকারী দাবি করেন।
এ সময় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাহিরপুরের সচেতন নাগরিকরাও ওই ভুয়া সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানান। মামলা করতে গিয়ে বাধার অভিযোগ ভুয়া সংবাদ ও মানহানির অভিযোগে থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তারা রাজনৈতিক চাপের আশঙ্কায় মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়োগ বাণিজ্য ও অন্যান্য অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আমিনুল ইসলাম তাহিরপুর হিলফুল উলুম মাদ্রাসায় তার স্ত্রীসহ কয়েকজনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা, পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে যাতায়াত, মাদ্রাসার জমি দখল করে দোকান নির্মাণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে যা তদন্তসাপেক্ষ বলে জানান অভিযোগকারী।
সচেতন মহলের দাবি অভিযোগকারীর বক্তব্য, সাংবাদিকতার মতো একটি মহৎ পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে আসা হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

প্রতিবেদক : ইয়াহিয়া।