শিরোনাম

সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে সিলেটে তুমুল সমীকরণ ; নজর এখন হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে

প্রকাশিত: ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে সিলেটে তুমুল সমীকরণ ; নজর এখন হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক:   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে সিলেট বিভাগে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিজয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘিরে দলীয় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত চলছে জোর হিসাব নিকাশ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় হাইকমান্ড।
প্রচলিত বণ্টন অনুযায়ী, সিলেট বিভাগ থেকে দুইজন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কথা। এর মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা থেকে একজন এবং হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা থেকে একজন মনোনীত হন। তবে কারা শেষ পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ।
সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না; বরং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও রাজনৈতিক অবস্থান এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আলোচনায় যেসব নাম
সিলেট বিভাগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন,সালমা নজির, শাম্মী আক্তার, ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী, সৈয়দা আদিবা হোসেন, সাবিনা খান পপি, হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, সামিয়া বেগম চৌধুরী, তাহসিন শারমিন তামান্না এবং জেবুন নাহার সেলিম।

এছাড়া সুনামগঞ্জে জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেন এর সহধর্মিণী সালমা নজির। দীর্ঘদিন তৃণমূল রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা ও ভাটি অঞ্চলে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার সম্ভাবনা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে ব্যাপক ।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সিলেট বিভাগের চার জেলা মিলিয়ে দুইজন নারী সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হয়ে আসছেন। যদিও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৫০টিতে উন্নীত হয়েছে, সিলেট বিভাগের বরাদ্দ অপরিবর্তিত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত আসনের অনুপাত বিবেচনায় সিলেট বিভাগের ১৯টি সাধারণ আসনের জন্য তিনটি সংরক্ষিত নারী আসন হওয়া যৌক্তিক। এ দাবি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সিলেটের রাজনীতিতে আলোচনা সমালোচনা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ