শিরোনাম

ছাতকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বদর উদ্দিন হত্যার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২৬

ছাতকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বদর উদ্দিন হত্যার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ছাতক প্রতিনিধি: ছাতকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শিশু বদর উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবার। শুক্রবার বিকেলে ছাতক প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের খাইরগাঁও গ্রামের নিহত বদর উদ্দিনের মা হুসনা বেগম এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন নিহত বদর উদ্দিনের পিতা আব্দুল হেকিম, মামা ইসলাম উদ্দিন ও বড় ভাই সামছ উদ্দিন।
হুসনা বেগম জানান, তার ছেলে বদর উদ্দিন (১৩) স্থানীয় জামেয়া ইসলামিয়া হাসনাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। গত বছরের ১৫ নভেম্বর দুপুরে পাশের গ্রামের নয়া লম্বাহাটি মহিলা মাদ্রাসায় আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে যায় বদর উদ্দিন। রাত ৮টার মধ্যে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
এক পর্যায়ে করছখালী ব্রিজের উপর বদর উদ্দিনের সহপাঠী একই গ্রামের পারভেজকে দেখতে পেয়ে তার কাছে জানতে চাইলে সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাকে ধরে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, করছখালী ব্রিজের পূর্ব দিকে ধানক্ষেতে বদর উদ্দিনকে শায়িত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছে।
পরে নিহতের পিতা আব্দুল হেকিম ও মাতা হুসনা বেগম পারভেজকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জমির আইলের মধ্যে বদর উদ্দিনকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা পারভেজ এবং একই গ্রামের সাব্বির ও আব্দুল আলিম ধানক্ষেত থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত অবস্থায় বদর উদ্দিনকে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে থানা পুলিশ হাসপাতালে এসে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
পরদিন ১৬ নভেম্বর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে একই দিন দুপুরে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হলে তারা বাড়িতে এনে বিকেলে দাফন সম্পন্ন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হুসনা বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার দুই দিন পর গ্রামের পারভেজ তাদের বাড়িতে এসে জানায় যে, গ্রামের সাব্বির ও আলিম উদ্দিন বদর উদ্দিনকে ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে মারধর করছিল এবং সে ঘটনাটি নিজ চোখে দেখেছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের বারবার হয়রানি করে। পরে বাধ্য হয়ে তিনি সুনামগঞ্জ আমল গ্রহণকারী আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৭৮/২৬, ধারা ৩০২/৩৪)।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, মামলার আসামি খাইরগাঁও গ্রামের আব্দুস শহিদের ছেলে মো. সাব্বির, নুর আলমের ছেলে মো. পারভেজ এবং মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আলিম উদ্দিন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ