সুজন তালুকদার : ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর (মানজিহারা) গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৪ মার্চ বুধবার, ১৪ রমজান তারাবির নামাজের পর আনুমানিক রাত ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত শুকুর আলীর পুত্র আব্দুল কাদিরের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে একই বাড়ির আরও ৬টি পরিবারসহ মোট ৭টি পরিবার মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। খবর পেয়ে গ্রামবাসী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। পরে ছাতক ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন ইউনুস আলীর পুত্র ইমান আলী, মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র আব্দুল মালিক, মৃত খমর আলীর পুত্র আব্দুস সাত্তার, মৃত সোনাফর আলীর পুত্র নাঈম উদ্দিন, মৃত তোরাব আলীর পুত্র রাহিম আলী, মৃত শুকুর আলীর পুত্র আব্দুল কাদির এবং মৃত আব্দুল জলিলের বৃদ্ধ স্ত্রী শাহানারা বেগম।
স্থানীয়দের ধারণা, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আগুনে তাদের গোয়ালঘর, খড়ের ঘর, বসতঘর, গাছপালা এবং ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, রাতের আঁধারে কেউ শত্রুতাবশত এ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ রয়েছে। তাদের গ্রামে ও আশপাশ এলাকায় বিগত দিনে এরকম আরো একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাদ উদ্দিন জানান, “ঘটনার কথা শুনেছি। এলাকায় না থাকায় সরাসরি ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি, তবে খোঁজখবর নিয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সান্ত্বনা দিয়েছেন।পরদিন বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মখদুছ আলী, রহিম উদ্দিন, আলী আহমদ, আনাছ আলী, সাবুল মিয়া, আলী হোসেন, গয়াছ মিয়া, ছাইদুল আলমসহ এলাকার অসংখ্য মানুষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা বলেন, “রাতেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তার চেষ্টা করা হবে।”ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।