সেলিম আহম্মেদ, ধর্মপাশা : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় বিলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাওনাই নদীর অংশ সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মিলনপুর গ্রাম সংলগ্ন চিতলিয়া কুড় ও কুড়ির বিলে। এতে এলাকায় পরিবেশগত বিপর্যয় ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গেল (জানুয়ারী) মাসের শেষ দিকে চিতলিয়ার বিলটির মাঝখানে বাঁধ তৈরি করে অসাধু শিকারিরা, বেশি মাছ ধরার লোভে রাতের আধাঁরে বা নির্জন সময়ে জলাশয়ে উচ্চমাত্রার কীটনাশক বা রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করে। এতে মাছ অক্সিজেন না পেয়ে ভেসে উঠলে সহজেই জালে ধরা পড়ে। বিষ প্রয়োগের ফলে শুধু বড় মাছ নয়, পানির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পোকা, মাছের পোনাসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যায়। এতে জলাশয়ের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থান ধ্বংস হয়েছে।
এমন কান্ডে বিলের পার ঘেঁষা মিলনপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার এ পানি ব্যবহার না করতে পারায় বিপাকে পড়েছে। ওই গ্রামের নয়ন বর্মন, অনুকুল বর্মন, বিশ্বজিত, দিগেন্দ্র বর্মন, অকিল বর্মন, সুকুমার বর্মন বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। তাছাড়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখত করবেন তারা।
তবে বিলের ইজারাদার মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, গতরাতে (২ ফেব্রুয়ারি) কে-বা কারা আমার জলমহালে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এবিষয়ে থানা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে লিখত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুবুল আলম হাদিস, জাহাঙ্গীর বিন রফিক, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মাহতাব, উপজেলা কৃষক দলের সহ প্রচার সম্পাদক মো: বাবলু মিয়া বলেন, মাছ শিকারে বিষ বা বিষ্ফোরক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
থাকা সত্যেও এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, বিষয়টি জেনেছি, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দেয়া হবে।