আব্দুস সামাদ আফিন্দী ::
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরে অসহায় কৃষাণী শাহিনুর আক্তারের ছয় বিঘা জমির পাকা ধান কেটে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।
রোববার উপজেলার সঞ্জীবন প্রকল্পের আওতাধীন আনসার ও ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ধান কাটার এ কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক সংকট ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছিলেন ওই কৃষাণী। এমন পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনা এবং সিলেট রেঞ্জের উপমহাপরিচালকের অনুপ্রেরণায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার কমান্ড্যান্ট সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সদস্যদের উৎসাহ প্রদান করেন। কৃষাণীর বাড়ি উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের সাচনা গ্রামের শ্মশান সংলগ্ন এলাকায়।
কৃষাণী শাহিনুর আক্তার বলেন, ধারদেনা করে ছয় বিঘা জমিতে চাষ করেছিলাম। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান পেকে গেলেও শ্রমিক না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে বিষয়টি পাশের বাড়ির ইউনিয়ন দলনেতা আনোয়ার হোসেন কে জানাই । তিনি বিষয়টি উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জামালগঞ্জকে জানালে আজ তারা এসে আমার ধান কেটে দেন। এতে আমি খুবই উপকৃত হয়েছি। আমি তাদের জন্য দোয়া করি, তারা যেন সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।
এ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সুজন মিয়া বলেন,বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনা এবং সিলেট রেঞ্জের উপমহাপরিচালকের অনুপ্রেরণায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া আবহাওয়া অফিসের আগাম সতর্কবার্তা অনুযায়ী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে ধান কাটা শেষ করতে হবে নতুবা বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ধান কর্তন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলার জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. সুজন মিয়া, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা খালেদ আহমদসহ জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভাতাভোগী ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা।
সম্পাদক: কবি ইমদাদুন খান (লন্ডন প্রবাসি বিশিষ্ট সমাজকর্মী )
সহ সম্পাদক : জাকিয়া সুলতানা মনি