প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১০:৫৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
নেতা চান প্রত্যাহার, কর্মীরা তালাবদ্ধ: সুনামগঞ্জ জামায়াতে লঙ্কাকাণ্ড

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও মধ্যনগর) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে চরম নাটকীয়তা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে গিয়ে নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর তোফায়েল আহমেদ খান। তাঁকে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটা থেকে সুনামগঞ্জ শহরের কাজীর পয়েন্টস্থ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ খান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিলে সাধারণ কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এক পর্যায়ে কর্মীরা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি ওই কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা জানান, "সুনামগঞ্জ-১ আসনে কেবল জামায়াত কর্মী নয়, সাধারণ ভোটাররাও তোফায়েল আহমেদ খানকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। জোট থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, এলাকার কেউ তাঁকে চেনে না। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা মানব না।" এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল্লাহ বলেন, "সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য যাওয়ার সময় সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে ঘিরে ধরে। তারা বাইরে থেকে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। একারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি সময়মতো উপস্থিত হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি।" অন্যদিকে, জোটের মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার মুঠোফোনে জানান, তিনি নেজামে ইসলামী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এবং সিলেট মহানগরের আমীর। জোট তাঁকে এই আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। জামায়াত আমীরের অবরুদ্ধ হওয়া বা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নেতা ও তাঁদের কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড বুঝবেন। এদিকে, সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মোট ৮ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তাঁরা হলেন সুনামগঞ্জ-১: মুখলেছুর রহমান (খেলাফত মজলিস) ও মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সুনামগঞ্জ-২: মাওলানা শোয়াইব আহমদ (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম) ও শাখাওয়াত হোসাইন (খেলাফত মজলিস), সুনামগঞ্জ-৩: মোহাম্মদ ইয়াসীন খান (জামায়াতে ইসলামী), সুনামগঞ্জ-৪: আজিজুল হক (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) ও মাহফুজুর রহমান খালেদ (এলডিপি), সুনামগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ খান মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারায় কারিগরিভাবে তিনি এখনো এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বহাল রয়েছেন। এতে করে সুনামগঞ্জ-১ আসনে জোটের একক প্রার্থী ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলো। তৃণমূলের এই বিদ্রোহ জোটের ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সম্পাদক: কবি ইমদাদুন খান (লন্ডন প্রবাসি বিশিষ্ট সমাজকর্মী )
সহ সম্পাদক : জাকিয়া সুলতানা মনি
Copyright © 2026 Vatir Kantho. All rights reserved.