লন্ডন থেকে কবি ও লেখক, ইমদাদুন খান : শীত আসে প্রকৃতির নিয়মে, কিন্তু কারও কাছে তা উৎসব, কারও কাছে নিরব মৃত্যু সংবাদ। ভোরের কুয়াশা যখন শহরের বাতাস ঢেকে ফেলে, তখন ফুটপাতে, রেলস্টেশনে, বাস টার্মিনালে কিংবা নদীর পাড়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষগুলোর রাত শেষ হয় না। শুধু কাঁপুনি বাড়ে। পুরোনো পলিথিন, ছেঁড়া চাদর কিংবা খবরের কাগজই হয়ে ওঠে তাদের শীতবস্ত্র।শিশুদের চোখে নেই ঘুম, বৃদ্ধদের শরীরে নেই শক্তি,নারীদের বুকে জমে থাকা ভয়, সব মিলিয়ে শীত তাদের কাছে কেবল একটি ঋতু নয়, এক দীর্ঘ সংগ্রামের নাম। শহরের আলোঝলমলে রাস্তার পাশে বসে থাকা মানুষগুলো আমাদের চোখে প্রায় অদৃশ্য। অথচ শীতের রাতে ঠান্ডা বাতাসের প্রতিটি হিমেল ঝাপটা যেন তাদের জীবনের গল্প আরও কঠিন করে তোলে। কেউ এক সময় ছিল কৃষক, কেউ দিনমজুর, কেউবা নদীভাঙনের শিকার। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তারা আজ ‘ছিন্নমূল’। রাষ্ট্রের মানচিত্রে নয়, কেবল ফুটপাথের বাস্তবতায় বেঁচে থাকা মানুষ।
শীত যত গভীর হয়, তাদের বেঁচে থাকার লড়াই তত কঠিন হয়ে ওঠে। অসুস্থতা বাড়ে, কাজের সুযোগ কমে যায়, আর মানবিক সহানুভূতির অভাব আরও প্রকট হয়। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানবিক মানুষ শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসেন এই সহানুভূতিই অনেকের কাছে নতুন দিনের সাহস হয়ে ওঠে।
শীত আমাদের শেখায় সহমর্মিতা। শীত আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানুষ শুধু নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্যই মানুষ।
ছিন্নমূল মানুষের জীবন যেন কেবল শীত মৌসুমে নয়, বছরের বারো মাসই আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় এই হোক প্রত্যাশা।
লেখক : কবি ইমদাদুন খান
সম্পাদক ও প্রকাশক, ভাটির কণ্ঠ, সুনামগঞ্জ।
সম্পাদক: কবি ইমদাদুন খান (লন্ডন প্রবাসি বিশিষ্ট সমাজকর্মী )
সহ সম্পাদক : জাকিয়া সুলতানা মনি